অধ্যক্ষকের প্রাসঙ্গিক কথা


ইঞ্জিঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ পৃথিবীতে যত রকমের সৃষ্টি রয়েছে, সকল সৃষ্টির কল্যাণ বর্ধণে শিক্ষার ভূমিকাই মূখ্য। ধরিত্রীকে লালন, বর্ধণ ও উপযোগী করতে শিক্ষার দরকার হয়। অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি, আচারণগত শৃঙ্খলা, বিবেচনা প্রসূত সকল মৌলিক চাহিদা মেটাতেও শিক্ষার অপরিহার্যতা রয়েছে। তাই “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড – Education is the backbone of the Nation”।

গতানুগতিক শিক্ষার মাধ্যমে জাতির মেরুদন্ড সুসংগঠিত হচ্ছে না বিধায় পৃথিবী আজ নির্মম ও গদ্যময়। ত্রুটি কি শিক্ষার, না অন্য কোথাও? তবে শিক্ষাই যে মানুষের মৌলিক প্রয়োজনীয় বিষয় সমূহের মধ্যে অন্যতম, এ বিষয়টি সন্দেহাতিতভাবে প্রমানিত ও সত্য। কোন শিক্ষা প্রয়োজন, কোথা হতে সে শিক্ষা অর্জিত হবে, অর্জিত সে শিক্ষার সফল প্রয়োগ কিভাবে বাস্তাবায়ন করা যাবে-ইত্যাদি প্রশ্নবিদ্ধ বিষয়সমূহ শিক্ষার নীতিনির্ধারকবৃন্দের বিবেচ্য বিষয়।

“Earth for Human & Human for Earth” অর্থাৎ ধরণী মানবের তরে, মানব ধরণী তরে। মানব জাতি ও ধরণীর মধ্যে একে অপরের নিবিড় সম্পর্ক চিরবিদ্যমান। অর্জিত শিক্ষার সময়োপযোগী সফল প্রয়োগ না হলে ধরণীও মানব জাতির মাধ্যমে লালিত হয় না। সে ক্ষেত্রে নিবিড় ও অবিচ্ছেদ্য সর্ম্পক লঙ্ঘিত হয়।

পরিবর্তনশীল পৃথিবীতে কোন শিক্ষা কতটুকু ও কবে প্রয়োজন? ইত্যাদি সম্পর্কে শিক্ষার নীতিনির্ধারক, প্রশাসক ও শিক্ষা ব্যবস্থাপকবৃন্দের দূরদৃষ্টি রাখতে হবে এবং সে ভাবেই শিক্ষার্থী সমাজকে ব্রতী করতে হবে।

আমাদের মতো দরিদ্র দেশে বেকার সমস্যা লাঘবে এ বিশ্বাস সকল ক্ষেত্রে হয়তোবা সফলকাম হবে না। তবুও আমাদের অঙ্গিকার হোক “সনাতন শিক্ষার পরিবর্তে যুগোপযোগী শিক্ষার প্রবর্তন করা”। কর্মমূখী ও প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা প্রসারে কতিপয় শিক্ষাবিদ, গবেষক, উদ্যোক্তা ও গুনী জনের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।

এ সকল গুনী জনের দোয়ায় সিক্ত হয়ে, ভবিষ্যৎ বিকাশমান কর্ণধারদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে “খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়”-সহ খুলনায় আরও ৭টি অঙ্গ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কারিকুলাম বাস্তবায়নের উদ্যোগে আমরা সর্বদা সচেষ্ট থাকবো।

ইঞ্জিঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ

অধ্যক্ষ
খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়